Image

টাঙ্গুয়ার হাওর ট্যুর প্ল্যান – Tanguar Haor Tour Plan

সুনামগঞ্জ জেলার প্রায় ১০০ বর্গকিলোমিটার এলাকা জুড়ে বিস্তৃত টাঙ্গুয়ার হাওর।একটি বিশাল অববাহিকা আকৃতির অগভীর জলাভূমিকে হাওর বলা হয়। হাওরগুলো প্রতিবছর বৃষ্টির জলে প্লাবিত হয় এবং তরঙ্গবিহীন সমুদ্রের আকার নেয়। প্রায় ৩০টি ঝর্ণা এসে সরাসরি মিশেছে ভারতের মেঘালয়ের পাদদেশে অবস্থিত এই টাঙ্গুয়ার হাওরে। নয়কুড়ি কান্দার ছয়কুড়ি বিল, নামে পরিচিত এই টাঙ্গুয়ার হাওর

আকর্ষনীয় পর্যটনকেন্দ্রঃ

বর্ষাকালে টাঙ্গুয়ার হাওর ঘুরার উপযুক্ত সময়। টাঙ্গুয়ার হাওর পরিযায়ী পাখির জন্যও বিখ্যাতটাঙ্গুয়ার হাওরের পুরোটা জুড়ে রয়েছে বৈচিত্র্যতা। তবু আলাদা করে যেসব আকর্ষনীয় পর্যটনকেন্দ্রগুলো ঘুরে দেখতে পারেন-
🔹 হিজল করচ বাগান
🔹 ওয়াচ টাওয়ার।
🔹 নীলাদ্রি লেক
🔹 যাদুকাটা নদী
🔹 বারিক্কা টিলা
🔹 শিমুল বাগান
🔹 লাকমা ছড়া

২ দিন ১ রাতের ট্যুর প্ল্যানঃ

টাঙ্গুয়ার হাওরে যেতে হলে প্রথমে সুনামগঞ্জ যেতে হবে। প্রতিদিন ঢাকা বাস বাসস্ট্যান্ড থেকে সরাসরি সুনামগঞ্জের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়।
টাঙ্গুয়ার হাওরে থাকার উপায় নেই। তবে আপনি নৌকায় থাকতে পারেন। তাই নৌকায় রান্না বা খাওয়ার জন্য স্থানীয় বাজার থেকে আপনার দৈনিক বাজার কিনে নিন। নৌকায় রাত কাটাতে চাইলে বাজারের কাছাকাছি থাকার চেষ্টা করুন। টাঙ্গুয়ার হাওড়ে ঐতিহ্যবাহী নৌকা বা প্রিমিয়াম হাউস বোট ভাড়া নিতে পারেন।

প্রিমিয়াম হাইজ বোটে আধুনিক সব সুবিধা রয়েছে। যেমনঃ অবসর সময়ে সবাইকে নিয়ে আড্ডা ও বিনোদনের জন্য লবি, রুম এবং লবির সবখানে লাইট, ফ্যান এবং চার্জিং সুবিধা, জেনারেটর সুবিধা ইত্যাদি।

টাঙ্গুয়া হাওর ভ্রমণের সতর্কতা ও কিছু পরামর্শঃ

🔹 টাঙ্গুয়ার হাওর আমাদের জাতীয় সম্পদ। এর সৌন্দর্য ও পরিবেশ রক্ষা করা আমাদের সবার দায়িত্ব।
🔹 হাওরের জলাবন ও প্রাকৃতিক পরিবেশের কোনো ক্ষতি করবেন না।
🔹 হাওরে নামার আগে অবশ্যই লাইফ জ্যাকেট পরে নিবেন।
🔹 খরচ কমাতে চাইলে দলবদ্ধভাবে ভ্রমণ করুন।
🔹 বজ্রপাতের সময় বোটের ছাদে উঠবেন না।
🔹 যাদুকাটা নদীতে কখনোই লাইফ জ্যাকেট ছাড়া পানিতে নামবেন না।
🔹 আপনার সন্তানকে সবসময় সাথে সাথে রাখুন। বোটে বা কেবিনে কখনোই একা ছাড়বেন না, বাচ্চা কেবিনে ঘুমালেও সাথে থাকুন।
🔹 সুনামগঞ্জ থেকে ঘাটে আসা-যাওয়ার লোকাল ট্রান্সপোর্ট এর ভাড়া দামাদামি করে নিন।
🔹 ওয়াচ-টাওয়ারে ঘোরার জন্য ছোট নৌকা এবং শিমুল বাগানে ঘোড়ায় চড়তে চাইলে অবশ্যই আগে দামাদামি করে নিবেন।
🔹 লাকমা ছড়া যেতে চাইলে অটো বা বাইক দামাদামি করে ঠিক করে নিন।
🔹 বারিক্কা টিলা উঠতে বাইক না নিয়ে হেটে হেটে চলে যেতে পারেন।
🔹 টেকেরঘাট বা বারিক্কা টিলা থেকে কোন ইন্ডিয়ান পণ্য কেনার আগে ভালো করে যাচাই করে নিন। ইদানিং নকল ইন্ডিয়ান পণ্য অনেক বেশি বিক্রি হচ্ছে।
🔹 বোটের কেবিনের ভেতরে না থাকার সময়ে জানালার গ্লাস সব সময় বন্ধ রাখুন। বারান্দায় কাপড় ছড়িয়ে রাখলে, সেটা খেয়াল রাখুন।
🔹 মাছ, পাখি ও অন্যান্য বন্যপ্রাণী শিকার থেকে বিরত থাকুন।
🔹 উচ্চ শব্দে গান বা সাউন্ড সিস্টেম ব্যবহার করবেন না।
🔹 প্লাস্টিক ও অন্যান্য বর্জ্য হাওরের পানিতে ফেলবেন না।
🔹 ভ্রমণের আগে অবশ্যই আপনার হাউসবোট বুকিং নিশ্চিত করে নিন।

Old Article →
নীলাদ্রি লেক – শহীদ সিরাজ লেক

নীলাদ্রি লেক – শহীদ সিরাজ লেক